Upcoming Conference/Events

Pages

News

News Details
উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী : সিকৃবি ভিসির অংশগ্রহণ
Wednesday, 13-May-2026 [10:05:17]

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পুঁথিগত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে হবে।

১২ মে (মঙ্গলবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং হায়ার এডুকেশন ইন বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু সাসটেইনেবল এক্সিলেন্স’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায়  তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে মুখস্থ বিদ্যা ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এখন অপরিহার্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরির অন্যতম নিয়ামক। ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর  ড. মামুন আহমেদ এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন  শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক প্রমুখ।  কর্মশালায় একজন বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি)  ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: আলিমুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন। 

দলগত আলোচনায় একজন বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে সিকৃবি ভিসি প্রফেসর ড. মো: আলিমুল ইসলাম বলেন, স্নাতকদের কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাহিদা-ভিত্তিক শিক্ষার মতো বিষয়গুলিতে ইউজিসি-র উচিত সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া, যাতে মানসম্মত ও চাহিদা-ভিত্তিক স্নাতক তৈরি করা যায়। তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার উপর বেশি জোর দেওয়া আবশ্যক, অন্যথায় অদক্ষ স্নাতক তৈরি হবে যা ভবিষ্যতে দেশের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। অতএব, বৈশ্বিক ও জাতীয় চাহিদা বিবেচনা করে দক্ষ স্নাতক তৈরি করতে হলে: ১. সফট ও হার্ড স্কিল বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষতার উন্নতি করতে হবে; ২. বিজ্ঞান স্নাতকদের পাঠ্যসূচিতে এআই-ভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; ৩. যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে; ৪. তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে শিল্প এবং শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে হবে; ৫. বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের জন্য ইন্টার্নশিপ এবং অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সময়কাল অবশ্যই নির্ধারণ করতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের আগ্রহ পেতে এবং ধরে রাখতে সাহায্য করবে; ৬. চাকরি এবং দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি ২ বছর অন্তর কোর্সের পাঠ্যক্রম সংশোধন ও হালনাগাদ করতে হবে ৭. চাকরির সুযোগ তৈরি করতে সকলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার পরিবর্তে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত বা জনপ্রিয় করতে হবে।